গাড়ির নম্বরপ্লেট ও বর্ণমালা আসলে কি অর্থ বোঝায়??

গাড়ির নম্বরপ্লেট ও বর্ণমালা

আমাদের দৈনন্দিন জীবণে চলাচলের অপরিহার্য একটি মাধ্যম হলো যানবাহন। প্রতিদিন চলার পথে আমরা অসংখ্য যানবাহন বা গাড়ি দেখতে পায়,যেগুলোর প্রতিটিতেই একটি নির্দিষ্ট নেমপ্লেট লাগানো থাকে।প্রতিটা নেমপ্লেটই আবার একটি আরেকটি থেকে আলাদা।তাহলে গাড়ির নম্বরপ্লেট আসল অর্থটা কি?

নেমপ্লেটগুলোর প্রত্যেকটিতেই নির্দিষ্ট নম্বর ও বর্ণ সংযুক্ত করা থাকে।প্রতিটি বর্ণেরই আছে একটা নির্দিষ্ট অর্থ।বর্ণগুলো কি অর্থ প্রকাশ করে তা জানার আগে এটা জেনে নেওয়া জরুরি যে এই নেমপ্লেটগুলো কারা প্রদান করে এবং কিভাবে প্রদান করে।


আপনি যখন একটি গাড়ি কিনবেন,তখন সেই গাড়িটির একটি রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়।বাংলাদেশে এই রেজিষ্ট্রেশন করতে হয় বাংলাদেশ রোডস এন্ড ট্রান্সপোর্টেসন অথোরিটি বা BRTA হতে।বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে নম্বরপ্লেট পদ্ধতি চালু হয়।
গাড়ি কেনার পর আপনি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করলে প্রথমে প্রথমে BRTA থেকে একটি ফরম প্রদান করবে,সেখানে গাড়ির তথ্যগুলো সংরক্ষণ করা হয়।এরপর সেই গাড়িটি কোন ক্যাটাগরিতে পড়তে পারে তা নির্দিষ্ট করে একটি স্বতন্ত্র নেমপ্লেট প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুনঃ একনজরে পদ্মাসেতু সম্পর্কিত সকল তথ্য।

নম্বর লেখার ফরম্যাটঃ


গাড়ির ক্যাটাগরি অনুসারে নম্বরপ্লেট প্রদানের জন্য BRTA একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট ব্যবহার করে।

ফরম্যাটটি হলোঃ

শহরের নাম-গাড়িটির ধরণ-রেজিস্ট্রেশন নম্বর-সিরিয়াল নম্বর।


যেমন ধরুনঃ একটি গাড়ির নেমপ্লেটে ঢাকা মেট্রো-চ-১১-৪৪২৯ লেখা আছে।এখনে ঢাকা মেট্রো দ্বারা শহরের নাম,চ বর্ণ দ্বারা গাড়িটির ধরন, ১১ দ্বারা,এর রেজিষ্ট্রেশন নম্বর এবং ৪৪২৯ দ্বারা,সিরিয়াল নম্বর বোঝানো হয়েছে।
BRTA এর নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশের গাড়িগুলোর জন্য কয়েকটি ক্যাটাগরি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।এর মধ্যে “য” ক্যাটাগরির,গাড়িগুলো শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়িগুলের জন্য ব্যবহৃত হবে।বাকিগুলো সাধারণ যানবাহনের জন্য প্রযোজ্য হবে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে যে স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো।।পর্ব-১

BRTA কর্তৃক নির্ধারিত যানবাহনের ক্যাটাগরিঃ

ক = ৮০০ সিসি প্রাইভেটকার
খ = ১০০০-১৩০০ সিসি প্রাইভেটকার
গ = ১৫০০-১৮০০ সিসি প্রাইভেটকার
ঘ = জীপগাড়ি
চ = মাইক্রোবাস
ছ = মাইক্রোবাস/লেগুনা (ভাড়ায় চালিত)
জ = বাস (মিনি)
ঝ = বাস (কোস্টার)
ট = ট্রাক (বড়)
ঠ = ডাবল কেবিন পিকআপ
ড = ট্রাক (মাঝারী)
ন = পিকআপ (ছোট)
প = ট্যাক্সি ক্যাব
ব = বাস (বড়)
ভ = ২০০০+ সিসি প্রাইভেটকার
ম = পিকআপ (ডেলিভারী)
দ = সি এন জি (প্রাইভেট)
থ = সি এন জি (ভাড়ায় চালিত)
হ = ৮০-১২৫ সিসি মোটরবাইক
ল = ১৩৫-২০০ সিসি মোটরবাইক
ই = ট্রাক (ভটভটি)
য= প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়ি


পৃথিবীর প্রতিটি দেশের এ ধরনের নম্বরপ্লেট ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে।তবে কিছু সংখ্যক মানুষ আছেন যারা নিজের পছন্দমতো তাদের নেমপ্লেটগুলো করিয়ে নেন।বিনিময়ে তাদেরকে গুণতে হয় মোটা অংকের টাকা।যেমনঃ এক আরব ব্যবসায়ী তার গাড়ির প্লেট নম্বর শুধুমাত্র ‘১’ রাখেন।এরজন্য তাকে প্রায় গুণতে হয়,প্রায়,৭.২৫ মিলিয়ন ইউরো।এছাড়া Formula One রেসের কিছু কিছু গাড়ির নম্বর একইভাবে রেসাররা মোটা অংকের টাকা জরিমানার বিনিময়ে নিজেদের পছন্দমতো বানিয়ে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back To Top