আইপিএলে খেলেছেন যে বাংলাদেশী ৬ ক্রিকেটার।।

আইপিএলে খেলেছেন যে বাংলাদেশী ৬ ক্রিকেটার।।

বিশ্ব টি-২০ ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সেরা ঘরোয়া আসর বলা হয় আইপিএলকে।২০০৮ সালে ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক আসরটি চালুর পর প্রতি বছরই বেড়েছে এর জনপ্রিয়তা।

বিশ্বের সেরা সব খেলোয়াড়,সাথে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকসহ বিশাল এই ক্রীড়াযজ্ঞের আয়োজক দেশ ভারত।বিদেশী ক্রিকেটারদের জন্য আসরটিতে দল পাওয়া একটা সৌভাগ্যের বিষয়।

বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা এখনও আইপিএল এ খুব একটা সফল না হলেও এখন পর্যন্ত ৬ জন ক্রিকেটার আসরটিতে খেলার সুযোগ পেয়েছে।

চলুন জেনে নেই সেই ক্রিকেটারদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যঃ

১.আব্দুর রাজ্জাকঃ

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা বামহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক।রাজ্জাকই প্রথম বাংলাদেশী খেলোয়াড় যে দেশের হয়ে প্রথম ২০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে।২০০৪ সালে বাংলাদেশের হয়ে তার অভিষেক হলেও ২০০৯ সালে তার বোলিং একশন অবৈধ হয়।পরবর্তীতে অবশ্য একশন শুধরে আবার দলে ফেরত আসেন।

আব্দুর রাজ্জাকই সর্বপ্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে এ ডাক পান।২০০৮ সালে রয়েল চ্যালেঞ্জারস ব্যাঙ্গালুরু তাকে ২০ লক্ষ টাকায় কিনে নেয়।

রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে তার একটি ম্যাচও খেলা হয়।ম্যাচটিতে রাজ্জাক ২ ওভার বল করে ২৯ রান দেন।অভিষেক ম্যাচে আলো ছড়াতে না পারায় পরবর্তীতে রাজ্জাকের আর কোনো আইপিএল এর ম্যাচে খেলা হয়নি।

২.মোহাম্মদ আশরাফুলঃ

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাংলাদেশ দলে আশরাফুলের অভিষেক হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে।প্রথম ম্যাচেই ১১৪ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন।সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করার এই রেকর্ডটি অনেকদিন পর্যন্ত টিকে ছিলো।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওডিআই ম্যাচের নায়কও ছিলেন তিনি।সেই ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেন আশরাফুল।

২০০৯ সালে ৭৫ লক্ষ রুপিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলে ডাক পান তিনি।দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে তার অভিষেকও হয়।সেই ম্যাচে ১০ বলে মাত্র ২ রান করেন আশরাফুল।এরপর তাকে দিয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলানো হয়নি।

২০১৩ সালে বিপিএল এ স্পট ফিক্সিং এর দায়ে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন আশরাফুল।এরপর তাকে আর জাতীয় দলে দেখা যায়নি।

৩.মাশরাফি বিন মর্তুজাঃ

বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্যাপ্টেন বলা হয় মাশরাফিকে।বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান উন্নতির পেছনে মাশরাফির অবদান অপরিসীম।

একটা সময় তিনি বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুতগতির বোলার ছিলেন।তবে ক্রমাগত ইনজুরির কবলে পড়ে একটা সময় সেই গতি হারান।

২০০৯ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের সাথে নিলামে লড়াই করে মাশরাফিকে ৬ লক্ষ ডলারে দলে ভেড়ান।কিন্তু চড়ামূল্যে কেনা হলেও আইপিএলে তেমন কোনো দ্যূতিই ছড়াতে পারেননি ম্যাশ।

প্রথম ম্যাচে ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে ৪ ওভার বল করে রান দেন ৫৮।সেই ম্যাচে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ডেকান চার্জার্সের প্রয়োজন ছিলো ২১ রান।কিন্তু রোহিত শর্মা মাশরাফির করা শেষ সেই ওভারে অনায়াসে ২১ রান নিতে সক্ষম হন।হেরে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স।

আরও পড়ুনঃ ক্যারিয়ারে দুইটি দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছে যে ১৫ ক্রিকেটার।

এরপর আর মাশরাফি আইপিএলে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি,কোনো দলে ডাকও পাননি।

৪.তামিম ইকবালঃ

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ওপেনার বলা হয় তামিমকে।তিন ফরমেট মিলিয়ে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

২০১২ ও ২০১৩ সালের আইপিএল এর দল পুনে ওয়ারিয়র্স তামিমকে ৫০ লক্ষ রুপি দিয়ে দলে ভেড়ায়।কিন্তু পুরো দুইটা বছরই তামিমকে সাইড বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়।

পুনের হয়ে একটা ম্যাচও খেলা হয়নি তামিমের।সেই দুইটা বছর পুনে ৮ম ও ৯ম পজিশন নিয়ে আইপিএল শেষ করে।আর্থিক সংকটে পড়ে ২০১৪ সালে পুনে ওয়ারিয়র্স আইপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়।এরপর তামিমেরও আর কোনো দলে খেলা হয়নি।

৫.সাকিব আল হাসানঃ

বাংলাদেশের পোস্টারবয় খ্যাত বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।বিশ্বের সব বড় বড় টুর্নামেন্টেই তার খেলার অভিজ্ঞতা আছে।

আইপিএলও বাংলাদেশীদের মধ্যে সবচেয়ে সফল সাকিব।এখন পর্যন্ত ৭১ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৭৯৩,উইকেট নিয়েছেন ৬৩ টি।

সাকিব ২০১১-১২ সালে ৩.৩০ কোটি টাকা মূল্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে,২০১৪-১৭ সালে ৩.৫০ কোটি মূল্যে পুণরায় কলকাতার হয়ে,২০১৮-১৯ সালে সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদের হয়ে এবং সর্বশেষ ২০২১ পুণরায় কলকাতা ৩.২০ কোটি রুপিতে সাকিবকে দলে টানে।

শুধুমাত্র ২০১৩ সালে সাকিব আইপিএল খেলেননি।২০১৪ সালে কলকাতার শিরোপা জয়েও সাকিবের বিশেষ অবদান ছিলো।

২০২২ সালে ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যে পুণরায় সাকিবের নিলাম হবে।

৬.মুস্তাফিজুর রহমানঃ

বিশ্ব ক্রিকেটে মুস্তাফিজ যেন এক বিস্ময়ের নাম।কাটার মাস্টার হিসেবে খ্যাত মুস্তাফিজ তার স্লোয়ার,কাটারের যাদুতে প্রতিনিয়ত ব্যাটসম্যানদের পর্যদুস্ত করে আসছে।

এখন পর্যন্ত আইপিএলে ৩৮ টি ম্যাচ খেলেছেন ফিজ,উইকেট নিয়েছেন ৩৮ টি।সাকিবের পর আইপিএলে সবচেয়ে বেশী ম্যাচ খেলা বাংলাদেশী প্লেয়ার হলেন মুস্তাফিজ।

২০১৬-১৭ সিজনে ১.৪০ কোটি রুপিতে প্রথমবার সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদের হয়ে,২০১৮ সালে ২.২০ কোটি রুপিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে ১ কোটি রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় রাজস্থান রয়্যালস।

২০২২ সালে ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যে পুনরায় মুস্তাফিজের নিলাম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back To Top